NarayanganjToday

শিরোনাম

আইয়ূবে প্রশ্নবিদ্ধ প্রশাসন, সম্মান গেল ফরিদের


আইয়ূবে প্রশ্নবিদ্ধ প্রশাসন, সম্মান গেল ফরিদের

কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আইয়ূব আলী। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলরত বন্ধন পরিবহনের এমডি। বহু বিতর্কে বিতর্কিত এই ব্যক্তি এবার ভুল তথ্য প্রদান করে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন সদর উপজেলা প্রশাসনকে!

অভিযোগ উঠেছে, ৩৩৩ নম্বরে কল করে খাদ্য সহায়তা চাইলে উপজেলা প্রশাসন থেকে খাদ্য সহায়তা দিতে তার খোঁজ খবর নেওয়া শুরু হয়। পরে, প্রশাসন জানতে পারে, ফরিদ উদ্দিনের চার তলা বাড়ি আছে, একটা হোসিয়ারি কারখানা আছে, তিনি এক জন ধনী লোক। এত সম্পদের অধিকারী কেন ৩৩৩ নম্বরে ফোন দিয়ে রাজকার্যে বিঘ্ন সৃষ্টি করল, এ অপরাধে ফরিদ উদ্দিনের শাস্তি ঘোষণা করেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও আরিফা জহুরা। ইউএনও বৃহস্পতিবার সরেজমিনে এসে ফরিদ উদ্দিনকে ১০০ জনের ত্রাণ কিনে দিতে হবে, নয়তো তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায় দেন।

ফরিদ উদ্দিনের ঘরে অবিবাহিত মেয়ে, এর মধ্যে তার জেল হলে মেয়ের বিয়ে হবে না। গোপনে সাহায্য চাইতে যেয়ে মহা সংকটে পড়েন ফরিদ উদ্দিন। ফরিদ উদ্দিনের ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীরা জানান গত শুক্রবার দুই বার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন ফরিদ উদ্দিন। পরে নিজের স্ত্রীর গহনা বন্ধক রেখে, সুদে ও ধার করে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা যোগার করে ১০০ জনের খাদ্যসামগ্রী কেনেন। ২২ মে সে ত্রাণসামগ্রী ইউএনও আরিফা জহুরা উপস্থিত থেকে সে ত্রাণ বিতরণ করেন।

আরও পড়ুন    এক প্যাকেট খাদ্য চেয়ে একশ প্যাকেট জরিমানা

আরও পড়ুন   ক্ষতিপূরণ পাবেন সেই ফরিদ, মাঠে তদন্ত কমিটি

এদিকে ওই ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে নারায়ণগঞ্জ ছাপিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রশ্নবিদ্ধ হয় উপজেলা প্রশাসন। অনেকে আবার ইউএনও আরিফা জহুরার এমন কাণ্ডকে কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে অবিহত করে ব্যাপক সমালোচনা করেন। সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও ফেসবুকে বিভিন্ন কমেন্টে মন্তব্য করেন।

তবে, সূত্র বলছে, একটি প্রশাসনকে স্থানীয় অনেক সূত্রের উপরই নির্ভর করতে হয়। সে হিসেবে উপজেলা প্রশাসন স্থানীয়ভাবে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের তথ্যের উপর অনেকটা নির্ভরশীল। জাতীয় পরিষেবা ৩৩৩ নম্বরে যারাই ফোন করে খাদ্য সহায়তা চাইলে বিষয়টিকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। পরে সেই ব্যক্তির সাথে গোপনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারদের মাধ্যমে খোঁজ খবর নিয়ে খাদ্য সহায়তা প্রেরণ করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন ফরিদ উদ্দিন সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে গিয়ে স্থানীয় মেম্বার আইয়ূব আলীর ওপর ভরসা রেখেছিলেন। সেই আইয়ূব আলীই ভুল ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাশিপুর আট নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আইয়ূব আলী বলেন, আমি প্রথমে কোনো তথ্য দিই নাই। আমার কাছে ইউএনও কিছু জানতে চায়নি। তিনি (ইউএনও) নিজেই মোবাইল কোর্ট নিয়ে চলে আসছে। আমি নিজেও বিব্রত হইছি। ফরিদ উদ্দিনের বাড়ি আমার বাড়ির পাশেই। আমার জানা মতে তিনি স্বচ্ছল ব্যক্তি। চারতলা বাড়ির মালিক। একটি হোসেয়ারি আছে। ওই হোসেয়ারি নিয়ে আমি বিচারও করে দিছিলাম। ইউএনওকে সেটাই বলেছিলাম। পাশাপাশি এও বলেছিলাম, এখন করোনাকাল, অনেকেই বিপদে আছে। তবে জানা মতে তিনি না খেয়ে থাকেন না। তারপরও যেহেতু ফোন দিয়ে ফেলেছে তার (ফরিদ উদ্দিন) পক্ষ থেকে ম্যাডাম আমি স্যরি। কিন্তু ইউএনও আমার কোনো কথাই শুনে নাই।

অন্যদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছেন, আইয়ূব আলী স্থানীয় মেম্বার। ফরিদ উদ্দিনের বাড়ির পাশেই তার বাড়ি। সহযোগিতার কথা তাকে না বলে ৩৩৩ নম্বরে কল দেওয়াতে তিনি ফরিদের উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। ওই ক্ষোভ থেকেই মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন ইউএনওকে।

এ প্রসঙ্গে আইয়ূব আলী বলেন, আমি ক্ষুব্ধ ছিলাম না। তবে ফরিদ উদ্দিনকে বলেছিলাম সাহায্য দরকার থাকলে আপনি আমাকে বলতে পারতেন। সেখানে ফোন দিলেন কেন। আমার এলাকায় কখনও ওসিও আসে না। সেখানে ইউএনও চলে আসছেন। এতে আমি নিজেই বিব্রত হইছি।

এদিকে চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনায় প্রশাসনেও ব্যাপক তোলপাড় চলছে। ইউএনও আরিফা জহুরাকে নিয়েও চলছে সমালোচনা। তিনি বিচক্ষণ ব্যক্তি হয়েও অবিবেচকের মত অমন কাণ্ড কীভাবে ঘটালেন। এনিয়ে সমালোচনার অন্ত নেই। এমন পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ উপজেলা প্রশাসনকে বৃদ্ধ ফরিদ উদ্দিনকে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এবং এই ঘটনার মূল উদঘাটনে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছেন। এই কমিটি আগামী বুধবার প্রতিবেদন জমা দিবেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ।

অপরদিকে সচেতন মহল বলছে, আইয়ূব আলীর কারণেই বৃদ্ধ ফরিদ উদ্দিনের সম্মানহানি ঘটেছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ফলে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী আইয়ূব আলীকে বিচারের মুখোমুখি করার পক্ষে মত দিয়েছেন তারা। এখন দেখার বিষয়, আইয়ূব আলীর বিরুদ্ধে প্রশাসন কি ধরণে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

উপরে