NarayanganjToday

শিরোনাম

শীতলক্ষ্যায় ঝরলো ৩৪ প্রাণ,তদন্ত কমিটির গণশুনানি ৮ এপ্রিল


শীতলক্ষ্যায় ঝরলো ৩৪ প্রাণ,তদন্ত কমিটির গণশুনানি ৮ এপ্রিল

শীতলক্ষ্যায় কার্গো জাহাজের ধাক্কায় লঞ্চডুবির ঘটনায় মোট ৩৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে সর্বশেষ উদ্ধার করা ৫ লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধারকাজের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে লঞ্চডুবির ঘটনায় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসনের গঠিত পৃথক তিন তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। আগামী ৮ এপ্রিল গণশুনানির আয়োজন করেছে নৌ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। তবে সন্ধ্যা সাতটায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত লঞ্চডুবির ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

রোববার সন্ধ্যা পাঁচটা ছাপ্পান্ন মিনিটে মুন্সিগঞ্জের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল ছেড়ে যায় এম এল সাবিত আল হাসান নামে যাত্রীবাহী লঞ্চটি। তখনও কালবৈশাখীর ঝড় শুরু হয়নি। লঞ্চটির ধারণ ক্ষমতা ৬৮ জন হলেও সেদিন তারও কম যাত্রী নিয়ে রওয়ানা হয়েছিল বলে সংবাদকে জানান লঞ্চ মালিক সমিতির সহসভাপতি মনিরুজ্জামান রাজা। অনুমানিক সোয়া ছয়টার দিকে মদনগঞ্জ-সৈয়দপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যায় নির্মাণাধীন সেতুর অদূরে এসকেএল-৩ (এম: ০১২৬৪৩) নামে একটি কার্গো জাহাজ পেছন থেকে ধাক্কা দেয় যাত্রীবাহী লঞ্চটিকে। সে সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, লঞ্চটিকে ঠেলে অন্তত ২০০ মিটার দূরে নিয়ে গিয়ে ডুবিয়ে দেয় কার্গো জাহাজটি। এর মধ্যেই নদীতে ঝাপিয়ে পড়েন কয়েকজন। প্রত্যক্ষদর্শী ও জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, রাতেই অন্তত ৩০ জন যাত্রী সাঁতরে জীবিত অবস্থায় নদী পার হতে সক্ষম হন। পাওয়া যায় পাঁচ নারীর লাশ। নিখোঁজ ছিলেন আরও অনেকে। ঘটনার ১৮ ঘন্টা পর লঞ্চটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হলে তার ভেতর পাওয়া যায় আরও ২১ জনের লাশ। বিকেলে মেলে আরও ৩ জনের লাশ। মঙ্গলবার সকালে পাওয়া যায় আরও ৫ জনের লাশ। প্রত্যেকের পরিবারকে মরদেহ হস্তান্তর করার সময় ২৫ হাজার টাকা করে প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।

লঞ্চডুবির ঘটনায় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসনের গঠিত পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। মঙ্গলবার তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে আগামী ৭ এপ্রিল গণশুনানির আয়োজন করেছে নৌ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। লঞ্চডুবির কারণ জানতে এবং দোষীদের চিহ্নিত করতে প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের সাক্ষ্য নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রট খাদিজা তাহেরা ববি ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন, সকল দিক বিবেচনা করেই তদন্তের কাজ শুরু করেছি। সাত সদস্যের এ তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাত সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান নৌ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আব্দুল ছাত্তার শেখ জানান, আগামী ৮ এপ্রিল সকাল ১১টায় দুর্ঘটনাস্থলে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গনশুনানিতে দুর্ঘটনায় নিহত পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে তাদের সাক্ষ্য নেওয়া হবে। দুর্ঘটনার কারণ ও ঘটনার জন্য দায়ীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সুপারিশ করবে তদন্ত কমিটি।

এদিকে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় লঞ্চডুবির ঘটনায় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। যদিও নারায়ণগঞ্জ নৌ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল আলম বলেন, বিআইডব্লিউটিএ একটি এজাহার প্রস্তুত করছেন বলে জেনেছি। মামলা হলে গণমাধ্যমকে অবগত করা হবে। তবে এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালক মাসুদ কামালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ মালিক সমিতির সুপারভাইজার শেখ জহির রায়হান বলেন, গতকাল দুপুর বারোটার দিকে তিনি লঞ্চ মালিক সমিতির পক্ষে একটি মামলা করতে নারায়ণগঞ্জ নৌ থানায় গিয়েছিলেন। প্রথমে তাদের সদর মডেল থানায় যাবার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে চলে যেতে বলা হয়। ওই ঘটনায় তাদের মামলা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ জহির রায়হানের।

ক্ষতিগ্রস্ত লঞ্চ সাবিত আল হাসানের মালিক আলাল হোসেনের মুঠোফোনের নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জহির রায়হান বলেন, ‘উনি ভীতু মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত লঞ্চটি তার একমাত্র লঞ্চ। এতগুলো মানুষ হতাহতের ঘটনায় তিনি অনেক মর্মাহত। তার পক্ষেই আমরা মামলা করতে গিয়েছিলাম।’

উপরে