NarayanganjToday

শিরোনাম

‌দেশ‌কে তা‌লেবা‌নি রাষ্ট্র বানা‌নোর খেলার অংশ আল জা‌জিরা


‌দেশ‌কে তা‌লেবা‌নি রাষ্ট্র বানা‌নোর খেলার অংশ আল জা‌জিরা

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান।

বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে এই প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি। আল জাজিরার এই প্রতিবেদন বাংলাদেশকে অকার্যকর ও তালেবানী রাষ্ট্র বানানো এবং সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার ‘খেলার’ অংশ বলে মনে করেন। এই ‘খেলার’ সাথে আন্তর্জাতিক পরাশক্তিরা জড়িত আছেন বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আল জাজিরার এই ঘটনা কিন্তু আজকের না। তারা এই ঘটনাকে নতুন আঙ্গিকে সাজিয়ে উপস্থাপন করেছেন। শুধু সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে কথা বলা হয়নি বরং আমাদের সামরিক উপদেষ্টা, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিগত ও বর্তমান প্রধান, পুলিশের আইজিপি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলা হয়েছে। এমনকি তাদের মধ্যে একজন অবসরও নিয়েছেন। আমি আগেও বলেছি এবং এখনও বলবো, এখন যে খেলাটি হচ্ছে তা কিন্তু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য নয়। এখন যা হচ্ছে বাংলাদেশকে অকার্যকর করার এবং এ দেশকে তালেবান রাষ্ট্র বানানোর খেলা হচ্ছে। এই খেলার সাথে জড়িত আছেন সুপ্রিম পাওয়াররা। ছোটবেলায় একটা কথা বলতো, “পাটা পুতা ঘষাঘষি, মরিচের জান শেষ” আমরা এই মরিচের অবস্থায় পড়েছি। তাই জনগণকে সচেতন হতে হবে এবং সকল রাজনীতিবিদকে দেশপ্রেমে জাগ্রত হতে হবে। কারণ সেনাবহিনী আওয়ামী লীগের না, জাতীয় পার্টির না ও বিএনপিরও না। এটা আমাদের স্তম্ভ। তারা আমাদের রাষ্ট্রের কাঠামোগুলোতে আঘাত করতে চায়। এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে।’

আওয়ামী লীগের এই সাংসদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বোমা হামলাটা আমার উপর হয়েছে। কারণ নারায়ণগঞ্জের পবিত্র মাটিতে যেখানে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে সেই মাটিতে রাজাকার গোলাম আজমকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছিলাম। আমাকে সতর্ক করা হলো ও প্রধানমন্ত্রী তার বাসভবনে আমাকে থাকতে বললো। ভেবেছিলাম আমাকে সামনাসামনি গুলি করা হবে কিন্তু আরডিএক্স ব্লাস্ট করা হলো। আমি সিআইডির কাছে যে সাক্ষী দিয়েছি। আমার সাক্ষী বদলে দেওয়া হয়েছে। কোর্টে বলেছি আমি এই সাক্ষী গ্রহণ করি না। আমি কোথায় বলবো বা কাকে বলবো। যেভাবে মামলা সাজিয়েছে আমি বিচারও পাইনি এখন পর্যন্ত এবং আদৌ পাবো কিনা জানি না।’

শামীম ওসমান বলেন, ‘প্রতিটি সিস্টেমে একটা দল থাকে তা হলো চাটুকার দল। যে বেশি চাটে সে আসল নয়। তারা চাটতে চাটতে সামনে চলে আসে। বাংলাদেশে এখন যা হচ্ছে তার সাথে শুধু বিএনপি নয় বরং স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ও আন্তর্জাতিক সুপ্রিম পাওয়ার জড়িত। না হলে সেনাপ্রধান যে সিটে বসবে তার পেছনের সিটে কেউ বসতে পারে না। স্বাধীনতার পর যারা এ দেশকে স্বীকৃতি দেয় নাই তারাও এ খেলার সাথে জড়িত। জাতির পিতাকে হত্যা ও এতকিছুর পরেও বাংলাদেশের এই উন্নতি তারা মেনে নিতে পারছে না। ফলে আজ তারা এত বেশি উত্তেজিত। আন্তর্জাতিক শক্তির যে খেলা তার টার্গেট একজনই, তিনি হলেন জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা।’

উপরে