NarayanganjToday

শিরোনাম

`ডেভিড-জাকিরের পর এবার রাজিবকে মাইনাসের অপচেষ্টা’


`ডেভিড-জাকিরের পর এবার রাজিবকে মাইনাসের অপচেষ্টা’

নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৪১ সদস্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।কমিটিতে তৈমুর আলম খন্দকারকে আহ্বায়ক ও মামুন মাহমুদকে সদস্য সচিব করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।এই ৪১ সদস্য কমিটিতে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজিবের নাম আসায় নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আয়শা আক্তার দিনা বলেন, ‘ডেভিড ভাই কে শেষ, জাকির খান ভাইকে মাইনাস, এখন রাজিব ভাইকেও মাইনাসের অপচেষ্টা চলছে। ডেভিড ভাইকে ক্রসফায়ারে হত্যার মাধ্যমে বিএনপির যেই ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তা কখনো পুরন হবার নয়। সেই ইতিহাস নতুন করে বলার আর কিছু নাই। এর আগেই জাকির খান ভাই কে বিএনপির রাজনীতির কুটকৌশল চালে ফেরারী জীবনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যাদের তর্জন গর্জনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি প্রান ফিরে পেতো, তাদের সরিয়ে দেওয়া হলো। ’

আয়শা আক্তার দিনা বলেন, ‘তখন দল ক্ষমতায় ছিলো তাই তাদের অভাব কেউ ততটা উপলব্ধি করতে পারে নাই। কিন্তু ২০০৬ এর পর থেকে বিএনপি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, তৃনমুল ধীরে ধীরে এই দুইজনের শূন্যতা হাড়ে হাড়ে টের পেতে থাকলো। এরপর তরুনদের উজ্জীবিত করার জন্য নিরলস চেষ্টা করতে থাকলো। তোলারাম কলেজের সফল ভিপি মাসুকুল ইসলাম রাজিব ভাই। দল ক্ষমতার বাহিরে দীর্ঘ দিন যাবত। এর মধ্যে হামলা মামলা বাচার জন্য অনেকেই বেছে নিল দালালী বা লিয়াজুর রাজনীতি। আপোষহীন হয়ে রইলো রাজিব ভাই। তরুন প্রজন্মকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথচলা যেনো হয়ে উঠলো কন্টকময়। অনেকেই দালালী, গোপন আতাত করে জিরো থেকে হিরো হতে থাকলো। কিন্তু, রাজিব ভাই নিঃস্বার্থভাবে জিয়া পরিবারকে ভালোবেসে দলীয় তরুন ছেলেপেলেদের স্বপ্ন দেখাতে থাকলো। এ যেন তারেক রহমান স্যারের ভ্যান গার্ড হয়ে নিরলস প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে। হামলা, মামলা, জেল খাটা কোন কিছুই রাজিব ভাইকে দমাতে পারেনি। বার বার ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাচ্চা সৈনিক মাসুকুল ইসলাম রাজিব ভাই। একদিন সুসময় আসবে, গনতন্ত্রের সূর্য উঠবে।’


নব গঠিত জেলা বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটিকে নিয়ে আয়শা আক্তার দিনা বলেন, এবারের ৪১ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ বিএনপির জেলার আহ্বায়ক কমিটি। যার হাতে তরুন প্রজন্ম স্বপ্ন দেখে, বিএনপির পতাকা হাতে গনতন্ত্রের যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিবে, তার সেই দুই হাত যেনো কেটে ফেলার অপচেষ্টা। যে মুখে উচ্চস্বরে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করবে, অনুপ্রাণিত করবে সবাইকে, সেই কন্ঠ যেন চেপে ধরার চেষ্টা চলছে। কিন্তু, রাজিব ভাইকে মাইনাসের এই অপচেষ্টা কি রাজিব ভাইয়ের ছেলেরা মেনে নিবে? শহীদ জিয়ার সাচ্চা সৈনিকেরা মেনে নিবে? মনে হয় না এইবার সেই অপশক্তি সাকসেস হবে।

রাজিবকে নিয়ে মন্তব্য করে আয়শা আক্তার দিনা বলেন, রাজিব ভাইকে দেখেছি কি ভাবে দলকে একত্রিত রাখা যায় সেজন্য দিন রাত  চেষ্টা করতে। দিনের পর দিন ফেরারী কখনো আশ্রয় হয়েছে জেলে । ভাবীকে(রাজিব ভাইয়ের বউ) দেখেছি দিনের পর দিন কোর্টের বারান্দায় প্রহর গুনতে। এক রাজিব দিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি চলে না। এমন আরোও অনেক নেতার জীবন কাহিনি। কিন্তু কাউকে দেখেছি নাটকীয় কারাবরণ করতে। আবার কাউকে দেখেছি প্রতিপক্ষ দলের প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হতে। নারায়ণগঞ্জ এর অনেক রাজনীতিবীদই সরকারী দলের প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার, তার মধ্যে রাজিব ভাই একজন। ডেভিড ভাইকে হারিয়েছি, জাকির খান ভাই নির্বাসনে, আশা করি আমরা রাজিব ভাইকে হারাতে দিব না আল্লাহর রহমতে। আশা করি খুব শীঘ্রই রাজিব ভাই তার প্রাপ্য স্থান পাবে। নয়তো লন্ডনে কিন্তু আমরাও কথা বলি। যারা লন্ডনের নাম বিক্রি করে রাজনীতি করেন, তারা কে কতটুকু ঐ খানে স্থান পান তা আমিও জানি। মুখ খুলতে চাই না। নাম বেঁচে নাম কামান। চুপ করে দেখি আর হাসি। চুপ থাকতে দেন। আমরা নাম বেচার রাজনীতি করি না। কথা একটাই রাজিব ভাইকে তার প্রাপ্য জায়গায় দেখতে চাই এবং তা খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে।

উপরে