NarayanganjToday

শিরোনাম

নূর হোসেন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ


নূর হোসেন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের দুই মামলায় নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নুর হোসেন ও তার স্ত্রী রোমা হোসেনের বিরুদ্ধে সাক্ষ‌্য দিয়েছেন দুদকের উপ-পরিচালক জুলফিকার আলী। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

বুধবার (১৩ জানুয়ারী) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১ এর বিচারক হোসনে আরার আদালতে তিনি এ সাক্ষ্য দেন।

এর আগে কারাগার থেকে আসামি নুর হোসেনকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় জামিনে থাকা অপর আসামি রোমা হোসেন আদালতে উপস্থিত হন। এরপর তাদের উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

এরপর সাক্ষীর জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরার জন্য সময় আবেদন করেন। আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি জেরা এবং পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন।

নুর হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় ২০১৫ সালের ১৭ নভেম্বর তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেয় দুদক। পরে মামলার তদন্তে নুর হোসেনের দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

২০১৬ সালের ১ আগস্ট মিথ্যা তথ্য দাখিল, অবৈধ সম্পদ অর্জনর, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজধানীর রমনা থানায় দুদকের উপ-রিচালক মো. জুলফিকার আলী বাদী হয়ে দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দুটি দায়ের করেন।

নুর হোসেনের দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ২ কোটি ৪০ লাখ ৪ হাজার ১৭২ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপান করে মিথ্যা তথ্য দাখিলের অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই সঙ্গে ২ কোটি ৭৬ লাখ ১১ হাজার ৮১৩ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের মালিকানা অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগও আছে এ মামলায়।  আর নূর হোসেনের স্ত্রী রোমা হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২২ হাজার ১১৬ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। গত বছর ১৮ মার্চ দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিনদিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ, পরদিন মেলে আরেকটি লাশ। নিহত বাকিরা হলেন-নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম। 

ঘটনার এক দিন পর কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে নূর হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় ১১ মে একই থানায় আরেকটি মামলা হয়। এ মামলার বাদী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। পরে দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত করে পুলিশ।

দুই মামলায় ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত রায় দেন। রায়ে র‍্যাবের সাবেক ১৬ কর্মকর্তা-সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন ও তার অপরাধজগতের নয় সহযোগীসহ মোট ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। এছাড়া র‍্যাবের আরো নয়জন সাবেক কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

সূত্র:ডেইলি বাংলাদেশ 

উপরে