NarayanganjToday

শিরোনাম

কাঁচপু‌রে গা‌র্মেন্ট শ্রমিক‌দের বি‌ক্ষোভ


কাঁচপু‌রে গা‌র্মেন্ট শ্রমিক‌দের বি‌ক্ষোভ

নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বেতনের পরিশোধের দাবিতে আবারও মহাসড়কে নেমেছে গার্মেন্টস শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (১০ জুন) সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুরে স্কয়ার গার্মেন্টসের শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিক্ষোভের খবর পেয়ে মহাসড়ক সচল রাখতে জলকামান নিয়ে উপস্থিত হয় নারায়ণগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪।

এসময় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ অনুরোধ করলেও শ্রমিকরা সড়কেই অবস্থান নেয়। পুলিশ এতে বাধা দিলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায় শ্রমিকরা আরও উত্তেজিত হয়ে শিল্প পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছে।

শ্রমিকরা জানায়, তাদের মাসিক বেতন বরাবরের মতো প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতো কারখানা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ৯ তারিখ হলেও বেতন না দিতে পারায় শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কারণ জানতে চাইলে ১০ জুন পর্যন্ত সময় নেয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানের কথামতো ১০ জুন সকালে শ্রমিকরা বেতনের জন্য গেলে তাদেরকে ২১ জুন বেতন দেয়ার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। এতেই বিক্ষুব্দ হয়ে পড়ে তারা। শুরু করে আন্দোলন। ঘটে ভাঙচুরের মতো ঘটনাও। তারা আরও জানায়,মিছিল নিয়ে এক পর্যায় চলে যায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। বন্ধ করে দেয় মহাসড়ক। ফলে দীর্ঘ যানজটের তৈরি হয় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। এর প্রভাব পরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও। খবর পেয়ে কাঁচপুরে থাকা শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদেরকে মাহসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করে। শ্রমিকরা পুলিশের কথায় কর্ণপাত না করে মহাসড়কেই অবস্থান নেয়। পুলিশ শ্রমিকদের জোর করে মহাসড়ক থেকে সরাতে চাইলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। পুলিশকে লক্ষ্য করে শ্রমিকরা ইট-পাটকেল ছুড়ে। পরে পুলিশ তাদের মহাসড়ক থেকে সরাতে টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও পথচারী আহত হয়।

এসকোয়ার গার্মেন্টেসের সিনিয়র ম্যানেজার নূরে আলম জানান, আমাদের এখানে প্রায় ৮ হাজার শ্রমিক কাজ করে। প্রতি মাসের ৪ থেকে ৮ তারিখের মধ্যে আমরা শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করে দেই। এখন করোনার কারণে কোম্পানীর অবস্থা ভালো না তাই এ মাসে একটু দেরী হয়ে গেছে। আজকেই তাদের বেতন দিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু শ্রমিকরা হয়তো ভেবেছিলো আজকে যদি বেতন না পায় তাহলে তাদের বেতন হয়ত রবিবার পাবে। কারণ শুক্র, শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকে। তাই তারা একটু জড়ো হয়েছিলো। বাইরের কারো ইন্ধনে এ ঘটনা ঘটেছে। আমাদের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ভাঙচুর কতটুকু হয়েছে তা তদন্ত শেষে জানাতে পারবো। আমরা আজকের মধ্যে সব শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করে দিবো। এত শ্রমিকের ভীড়ে কেউ আহত হয়েছে কিনা তা জানি না এবং এরকম কিছু আমাদের নজরে পড়েনি।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশের পরিদর্শক (ওসি ইন্টেলিজেন্ট) শেখ বসির আহম্মেদ জানান, গত মে মাসের বেতনের দাবীতে শ্রমিকরা অনেকটা হঠাৎ করেই রাস্তায় চলে আসে। তাদের সড়ক থেকে সরাতে চাইলে একটু সমস্যা হয়েছিল। মালিক পক্ষ কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে বেতন পরিশোধের আশ্বস্ত দেয়ার পর তারা সরে যায়। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

উপরে