NarayanganjToday

শিরোনাম

ফরিদ কাণ্ডে আইয়ূব বললেন, ‘আমি বলির পাঠা’


ফরিদ কাণ্ডে আইয়ূব বললেন, ‘আমি বলির পাঠা’

কাশিপুরে খাদ্য সহায়াতা চেয়ে শাস্তির মুখোমুখি হওয়া ফরিদ কাণ্ডে বিতর্কিত মেম্বার আইয়ূব আলীকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি। ৩ জুন কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম বেপারী জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন।

যদিও রোববার (০৬ জুন) তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেওয়ার কথা থাকলেও দুদিন আগেই তা জমা দেওয়া হয়েছে। এতে সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরাকে দায় মুক্তি দেয়া হয়েছে।

পাঁচ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে কয়েকশ ডকুমেন্ট ও ভিডিও ফুটেজ জমা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীকে জরিমানা করা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরাকে সরাসরি দোষী করা না হলেও ভবিষ্যতে ৩৩৩ এর ফোনের ক্ষেত্রে সেবা গ্রহীতা সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে শুধু স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ওপর নির্ভর না করে এলাকার মুক্তিযোদ্ধা, মসজিদের ইমাম এবং প্রয়োজন বোধে গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ঘটনার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধির যথাযথভাবে তথ্য দিতে না পারাকেই দায়ী করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সেবা গ্রহীতার আর্থিক সঙ্গতির বিষয়ে যথাযথভাবে তথ্য দিতে পারেননি। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাকে আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তাই ভবিষ্যতে ৩৩৩ এর ফোনের ক্ষেত্রে সংশ্নিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাকে আরও সতর্ক হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবেদনটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। যেহেতু প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের অধীন কাশীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বারকে ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে, পরবর্তী সময়ে সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ১৮ মে জাতীয় কলসেন্টার ৩৩৩ ফোন করে খাদ্য সহায়তা চেয়ে বিপাকে পড়েছিলেন ফরিদ উদ্দিন। ইউপি সদস্যের ভুল তথ্য দেওয়ার জেরে ইউএনও তাকে উল্টো একশজনকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার শাস্তি দেন। পরে ফরিদ উদ্দিন সহায়তার ব্যবস্থা করেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এতে সমালোচনা আরও বেড়ে যায়। ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী ইউএনওকে জানিয়েছিলেন, ফরিদ উদ্দিন চারতলা বাড়ির মালিক ও ব্যবসায়ী। এই ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইউএনও সরকারি কাজে ব্যাঘাত ঘটানোর অভিযোগে অসহায় ফরিদ উদ্দিনকে শাস্তি দেন। এ ঘটনায় গত ২৩ মে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম বেপারীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন এবং সেদিনই ফরিদ উদ্দিনকে তার টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী বলেন, আমাকে ফাঁসানো হয়েছে, বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। তারা প্রশাসনের লোক, তারা যা বলবেন তাই ঠিক।

উপরে