NarayanganjToday

শিরোনাম

সেই আলমাছের পক্ষে আ.লীগ নেতাকর্মীর মানববন্ধন


সেই আলমাছের পক্ষে আ.লীগ নেতাকর্মীর মানববন্ধন

রূপগঞ্জে প্রকাশ্যে দিবালোকে সোলাইমান নামে এক যুবলীগ কর্মীকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

ওই হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে বহুল আলোচিত, একাধিক হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ আলমাছকে। এয়াড়াও মামলায় তারাব পৌরসভার কাউন্সিলর ও রূপগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম মনিরও আসামী হয়েছেন।

তবে, তারা ওই হত্যায় জড়িত ছিল না বলে দাবি করেছেন মানববন্ধন করা আওয়ামী লীগের নেতারা। মানববন্ধন থেকে মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেন তারা।

শুক্রবার (০৪ জুন) রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় এ মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধন থেকে খুনের শিকার সোলাইমানকে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এমনকী সে গণপিটুনিতে নিহত বলেও দাবি করেন মানববন্ধনে আসা নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সোলাইমান রূপগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলো। এমন কোনো অপরাধ নেই সে রূপগঞ্জে করে নাই।

তাদের দাবি, গত ১ জুন তারাব পৌরসভার গন্ধর্বপুর নামাপাড়া এলাকায় দিন দুপুরে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ডাকাত প্রবেশ করেছে মর্মে মসজিদে মাইকিং করা হয়। এ সময় গ্রামবাসী ধাওয়া করে সোলাইমানকে ধরে গণপিটুণি দেয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সে মারা যায়।

অন্যদিকে নিহত সোলাইমানের পরিবার থেকে দাবি করা হয়েছে, সোলাইমান ঘটনার দিন দুপুরের তার মাছের খামারে খাবার দিচ্ছিলো। এসময় চেয়ারম্যান আলমাছের লোকজন তাকে ডেকে এনে প্রকাশ্য দিবালোকে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে এবং কুপিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনার পরদিন সোলাইমানের ছোট ভাই রাজীব মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

এদিকে শুক্রবার মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন ভুঁইয়া, কাঞ্চন পৌরসভার আওয়ামী লীগের সাধারণ গোলাম রসুল কলি, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মশিউর রহমান তারেক, সাধারণ সম্পাদক্ব হাবিবুর রহমান হারেজ, ভোলাবো ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক হাসান আশকারী, গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল সাত্তার ভুঁইয়া, ভুলতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, ফিরোজ ভুঁইয়া, আব্দুল মান্নান মুন্সী, সাবেক রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি তাবিবুল কাদির তমাল, আব্দুল মান্নান মিয়া , রূপগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুল হাসান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন, রূপগঞ্জ স্বেচ্ছসেবকলীগের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মেহের, সাধারণ সম্পাদক নাঈম ভুঁইয়া, ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার আরিফুল ইসলাম,তারাব পৌরসভার কাউন্সিলর মাহাবুবুর রহমান জাকারিয়া, আতিকুল ইসলাম, তারাব পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান বাবেল, তারাব পৌর যুবলীগ সভাপতি মোশারফ হোসেন, রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিকদার, সিনিয়র সহ-সভাপতি তানজিল আহমেদ রিয়াজ, রূপগঞ্জ উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শীলা রাণী পাল, রূপগঞ্জ উপজেলা যুব মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফেরদৌসী আক্তার, সাধারণ সম্পাদক সেলিনা আক্তার রিতা।

তাদের দাবি, সোলাইমান যুবলীগের কর্মী বা সমর্থক কিছুই ছিলেন না। সে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিল। তারা আলমাছ চেয়ারম্যানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক বলে উল্লেখ করেন এবং তা প্রত্যাহারের দাবি করেন।

তারা ব‌লেন, ঘটনাস্থল তারাব পৌরসভার গন্ধর্বপুর নামাপাড়া এলাকায় হওয়া সত্ত্বেও ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ আলমাছ, ২০ কিলোমিটার দূরে কাঞ্চনের ডিস ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা  সানাউল্লাহ সানি, ১৭ কিলোমিটার দূরে সোনারগাঁও থানার পেরাবো এলাকার রুবেল সিকদার ও রূপগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সহ ২১ জনকে এ মামলায় আসামী করা হয়।  শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ও আসন্ন মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তোফায়েল আহমেদ আলমাছকে অযোগ্য করে তুলতেই গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় তাদেরকে আসামী করেছে।  সুষ্ঠু তদন্ত করে হত্যাকারীদের বিচার করতে হবে। নিরপরাধীদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। 

প্রসঙ্গত, সোলায়মানের নামে হত‌্যাসহ একা‌ধিক মামলা র‌য়ে‌ছে। এগু‌লো হ‌চ্ছে, হত্যা মামলা রূপগঞ্জ এফআইআর নং ৪২। তারিখ - ২৩/০৩/২০১৭ । এফআইআর নং- ২৪। তারিখ- ১২/০৪/২০১৬ হত্যা মামলা। এফআইআর নং- ০৬ তারিখ- ০৪/০২/১৪ মাদক দ্রব্য। এফআইআর নং - ৪৫ তারিখ- ২৩/০৮/২০১৩ মাদক দ্রব্য। এফআইআর নং-৩৯ তারিখ - ১২/০৫/১৯ নারী ও শিশু। এফআইআর নং -৭৮ তারিখ - ২৪/০৪/১৯ । এফআইআর নং - ২০ নারী ও শিশু নির্যাতন । এফআইআর নং - ৫২ মাদকদ্রব্য।  এফআইআর নং- ০৬ মাদকদ্রব্য। এফআইআর নং- ৪৫ তারিখ ২৩/০৮। 

এদিকে রূপগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ সভাপতি কামরুল হাসান তুহিন বলেন, আমাদের যুবলীগের কোনো কমিটিতে তার নাম নেই। সোলাইমান যুবলীগের কেউ না।

উপরে