NarayanganjToday

শিরোনাম

আলমাছ চেয়ারম্যানের ফাঁসি দাবিতে বিক্ষোভ


আলমাছ চেয়ারম্যানের ফাঁসি দাবিতে বিক্ষোভ

রূপগঞ্জের মুড়াপাড়ায় যুবলীগ কর্মী সোলায়মান হত্যায় অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আলমাছ ও তার অন্যান্য দোসরদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার (৩ জুন) সকালের দিকে মুড়াপাড়া এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী।

বিক্ষুব্ধরা এসময় সোলায়মান হত্যায় চেয়ারম্যান আলমাছকে অভিযুক্ত করে স্লোগান দেন। একই সাথে তাকেসহ এই হত্যায় জড়িত অন্যান্যদের দ্রুত গ্রেফতারসহ ফাঁসি দাবি করেন তারা। বিক্ষুব্ধরা আলমাছ চেয়ারম্যানকে একজন সন্ত্রাসী, গডফাদার হিসেবেও আখ্যায়িত করেন। একই সাথে ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজির সাথেও এই চেয়ারম্যান সম্পৃক্ত বলে তারা দাবি করেন। এলাকাবাসী শুধু আলমাছ চেয়ারম্যানই নয়, তার শেল্টারদাতাদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন।

এর আগে পয়লা জুন দুপুরের দিকে উপজেলার তারাব পৌরসভার গন্ধর্বপুর নামাপাড়া এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে যুবলীগ কর্মী সোলায়মানের মাথা ইট দিয়ে থেঁতলে ও কুপিয়ে হত্যা করে একদল দুস্কৃতিকারি। তারা আলমাছ চেয়ারম্যানের লোক এবং তার নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে দাবি নিহতের পরিবারের।

সোলায়মানের পরিবার থেকে দাবি করা হয়েছে, আলমাছ চেয়ারম্যানের সাথে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বন্দ্ব চলছিল সোলায়মানের। প্রায় সময় দুই পক্ষের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটতো। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে ঘটনার দিন সোলায়মানকে নার্সিংগেল এলাকায় তার মাছের খামার থেকে ডেকে নিয়ে এসে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় দুস্কৃতিকারিরা। সোলায়মান উপজেলা পরিষদ চত্বর এলাকার মজিদ শিকদারের ছেলে।

এদিকে সোলায়মান হত্যার ঘটনায় বুধবার (২ জুন) রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের ছোট ভাই রাজীব মিয়া। তিনি মামলায় প্রধান আসামী করেন মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ আলমাছকে। তার সাথে আসামী করা হয়েছে আরও বিশজনকে। এই ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে, হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা আলমাছ ঘটনার পর থেকেই পালিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

তারা বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালি পক্ষের আস্কারাতেই এক সময়ে বিএনপি করা আলমাছ এখন মুড়াপাড়া এলাকার সব থেকে বড় আওয়ামী লীগার। এই পক্ষের সমর্থন নিয়েই তিনি ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার বিরুদ্ধে সোলায়মান হত্যা ছাড়াও আরও একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য, ২০০৪ সালে বানিয়াদি এলাকার শমসের, ২০০৮ সালে মীরকুঠিরছ এলাকার নয়ন, ২০১২ সালে ছাত্রদল নেতা নজরুল ইসলাম বাবু, ২০১৩ সালে তার পিতা জালাল ও একই বছর যুবলীগ নেতা শওকতকে খুনের পেছনে রয়েছে আলমাছ ও তার বাহিনীর নাম।

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপি নেতা রাসেল ভূইয়া হত্যা মামলায় ফাঁসির দন্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামী ছিলেন এই আলমাছ। পরে উচ্চ আদালতে তাকে দন্ডাদেশ মওকুফ করে খালাস দেয়া হয়।

উপরে