NarayanganjToday

শিরোনাম

সেই মহাপ্রতারক শামীম এবার স্কুলছাত্রী ধর্ষণে গ্রেফতার


সেই মহাপ্রতারক শামীম এবার স্কুলছাত্রী ধর্ষণে গ্রেফতার

কখনও ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর জাল করা, কখনও প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং অন্যের জমিকে নিজের দাবি করে সাইনবোর্ড সাটিয়ে তা বিক্রি করা একজন স্বীকৃত ভূমিদস্যু শামীম তারেক। একাধিকবার নানা অভিযোগে গ্রেফতারও হয়েছিল এই মহাপ্রতারক। এবার এই প্রতারক গ্রেফতার হয়েছেন তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ছুরির ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগে।

২৬ মে রাত আটটার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের দেলপাড়া টাওয়ার পাড় জনৈক মিলনের ছয়তলা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।

শামীম তারেক দেলপাড়া টাওয়ার পাড় এলাকার কে এম সোয়েব আহমেদ ওরফে বয়রা ডাক্তারের ছেলে।

২৬ মে সকালে ধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রীর মা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করে। পরে এদিন রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে, জানিয়েছেন থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) রকিবুজ্জামান।

ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর মা তার মামলার অভিযোগে জানিয়েছেন, শামীম তারেক যে বাড়িতে ভাড়ায় থাকেন তিনিও একই বাড়িতে বসবাস করেন। সেই সুবাধে ওই স্কুলছাত্রী তাকে আঙ্কেল বলে ডাকতেন। এরমধ্যে ১৬ মে দুপুরের দিকে মেয়েকে বাসায় একা রেখে বাইরে গেলে শামীম তাকে প্রথম দফা ধষর্ণণ কের। পরদিন দুপুরে স্কুলছাত্রীকে আবারও ধর্ষণ করতে চায় শামীম। এসময় স্কুলছাত্রী চিৎকার দিতে চাইলে তাকে ছুরির মুখে জিম্মি করে দ্বিতীয় দফা ধর্ষণ করে। এ পর্যায়ে স্কুলছাত্রী অসুস্থ হয়ে পরলে শহরের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সে তার মাকে ধর্ষণের ঘটনাটি খুলে বলে।

এদিকে সৃজন হাউজিং লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাজী শামীম তারেক বহু বিতর্কে বিতর্কিত একজন মহাপ্রতারক। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ নতুন নয়। কম মূল্যে প্লট দেওয়ার কথা বলে নীরিহ সাধারণ মানুষের সাথে তিনি ও তার প্রতিষ্ঠানের অন্যান্যরা বহু আগের থেকেই প্রতারণা করে আসছিলেন।

সূত্র জানায়, সৃজন হাউজিংয়ের মালিক কাজী শামীম তারেক জেলার সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তল ও ব্রাহ্মণগাঁয়ে বিভিন্ন নিরীহ মানুষের জমির ওপর ভুয়া সাইনবোর্ড ব্যবহার করে সাধারন মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। এই প্রতারক চক্রটি সদর উপজেলার ইসদাইরের মৃত. সামসুল হক বেপারীর ছেলে মো. মোশারফ হোসেনকে কম টাকায় প্লট দেয়ার নামে ২০১২ সালের মে মাস হতে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ৩৫ লাখ টাকা গ্রহন করেন। কিন্তু মোশারফ হোসেনকে জমি বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি শুরু করেন। এ ঘটনায় মো. মোশারফ হোসেন ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরীও করেন। যার নং ৬৯৪ (১৫/১/১৭ইং)।

এদিকে থানায় সাধারণ ডায়েরী করায় মোশারফের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে কাজী শামীম তারেক ও তার সহযোগিরা। বিনিময়ে বিভিন্ন সময় নানা হুমকি ধামকি দিতে শুরু করে। এসব ঘটনায় নিরুপায় হয়ে মোশারফ হোসেন শামীম তারেকসহ তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে একটি সিআর মামলা করেন যার নং ৩৪৯/১৭।

অপরদিকে প্রতারণা মামলায় আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে শামীম তারেকের সহযোগিরা মোশারফ হোসেনকে মামলা তুলে নিতে অব্যাহত হুমকি প্রদান করেন এবং কক্সবাজার থেকে মেজিস্ট্রেটের জাল স্বাক্ষর সম্বলিত একটি ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে তাকে হয়রানি করতে শুরু করেন। এ ঘটনায় মোশারফ হোসেন ফতুল্লা মডেল থানায় আরও একটি সাধারন ডায়েরী করেন। যার নং ৩৯০ (৮/৮/১৭ইং)। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ প্রতারক শামীম তারেককে গ্রেফতার করে।

এদিকে এত এত প্রতারণার পরেও দমেনি সৃজন হাউজিংয়ের প্রতারণা। নানা কৌশলে একই জমি বিভিন্ন জনকে দেখিয়ে অল্প মূল্যে প্লট দেওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কর্ম তিনি চালিয়ে আসছেন সুকৌশলে। এমনকি এসব প্রতারণার কাজে তিনি তার স্ত্রীকেও ব্যবহার করছেন। ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বরে শহরের চাষাড়া বালুর মাঠ এলাকার লূৎফর রহমান খানের ছেলে নান্নু খানের দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলায় তার স্ত্রী শিউলি তারেক ও জিএম আফরিন আক্তারকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন আদালত।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকা কাজী শামীম তারেকের উত্থান বিএনপি-জামাত জোট সরকার আমলে মনিরুল আলম সেন্টুর হাত ধরে। তিনি মনিরুল আলম সেন্টুর একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন মানুষের সাথে নানা ভাবে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকার মালিকও বনেছিলেন তিনি। সৃজন হাউজিং লিমিটেড হচ্ছে সেই প্রতারণার একটি অন্যতম মাধ্যম। অনেকের কাছে তিনি নীরব ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। তার ব্যাপারে জোড়ালো পদক্ষেপ নিতে পুলিশ সুপারের প্রতি দাবি জানান ভুক্তভোগিরা।

উপরে