NarayanganjToday

শিরোনাম

প্রধানমন্ত্রীর উপহার নিয়ে সেই ফরিদের বাড়ি গোলাম রাব্বানি


প্রধানমন্ত্রীর উপহার নিয়ে সেই ফরিদের বাড়ি গোলাম রাব্বানি

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুরের সেই বৃদ্ধ ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদের পাশে এসে দাঁড়ালেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানি। বুধবার (২৬ মে) ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা ফরিদ উদ্দিনের বাড়িতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে খাদ্য ও নগদ অর্থ সহযোগিতা করেন এবং ফরিদ উদ্দির প্রকৃত ঘটনাও বর্ণনা করেন।

গোলাম রাব্বানি জানিয়েছেন, “টিম পজিটিভ বাংলাদেশ (ঞবধস চড়ংরঃরাব ইধহমষধফবংয (ঞচই) এর পক্ষ থেকে ১০০ কেজি চাল, ৬০ কেজি আলু, ২৫ কেজি ডাল, ৮ কেজি তেল ও নগদ ৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। এই সহযোগিতাকে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভালোবাসার উপহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।”

তিনি জানিয়েছেন, “নারায়ণগঞ্জ সদর, দেওভোগ নাগবাড়ি এলাকার ফরিদ চাচা, এই দুর্যোগকালীন সময়ে উপার্জনের মাধ্যম কারখানা বন্ধ থাকায় প্রতিবন্ধি ছেলে, কলেজ পড়ুয়া মেয়ে, স্ত্রীকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় পড়ে গেলে, সরকারী খাদ্য সহায়তার প্রত্যাশায় ফোন করেন ৩৩৩ নাম্বারে। কিন্তু সদর ইউএনও ঠিকঠাক খোঁজ না নিয়েই, তাকে স্বচ্ছল ভেবে উল্টো জরিমানা করে বসেন! পরে চাচার প্রকৃত অবস্থা জেনে, প্রশাসন ক্ষতিপূরণের অর্থ ফেরত দিলেও, ৩৩৩ এর সে খাদ্য সহায়তা আর পায়নি তার পরিবার।”

রাব্বানি আরও বলেন, “আর এই দুর্যোগময় সময়ে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রকৃত অসহায় কেউ যদি ৩৩৩ তে ফোন করে মাঠ প্রশাসনের দায়িত্ব অবহেলায় খাদ্য সহায়তা না পান, টিম পজিটিভ বাংলাদেশকে জানান। আমরা সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করবো ইনশাআল্লাহ।”

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের নাগবাড়ি এলাকার বৃদ্ধ ফরিদ উদ্দিন জাতীয় পরিষেবা ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে খাদ্য সহায়তা চেয়েছিলেন। এই ঘটনায় উপজেলা পরিষদের লোকজন ফরিদ সম্পর্কে খোঁজ নিতে আসলে স্থানীয় মেম্বার আইয়ূব আলী জানিয়েছিলেন, ফরিদ উদ্দিন একজন স্বচ্ছল মানুষ। তিনি চারতলা বাড়ি ও হোসেয়ারি মালিক। তার এই তথ্যের ওপর সদর ইউএনও আরিফা জহুরা বৃদ্ধকে একশো ব্যাগ খাদ্য জরিমানা করেন। অন্যথায় তিন মাসের কারাদণ্ড। বাধ্য হয়ে ফরিদ স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার বন্ধকসহ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধারদেনা করে ৭০ হাজার টাকায় একশো ব্যাগ খাদ্য জরিমানা পরিশোধ করেন।

পরে, গণমাধ্যমে উঠে আসে ফরিদ উদ্দিন প্রকৃত অর্থেই একজন দরিদ্র মানুষ। চারতলা বাড়ির ছাদে দুটি টিনসেড রুম তার। ঘরে একটি প্রতিবন্ধি ছেলে ও একজন কলেজ পড়ুয়া মেয়ে রয়েছেন। তিনি ব্রেন স্ট্রোক করে অনেকটা কর্মঅক্ষম অবস্থায় আছেন। একটি হোসেয়ারিতে কাজের তদারকি করে মাসে ৮ হাজার টাকা বেতন পান তিনি। এ দিয়েই চলে তার সংসার। এ বিষয়টি উঠে আসার পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক হইচই হয়। প্রশাসনেও চলে এ নিয়ে তোলপাড়। পরে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ ওই ঘটনায় প্রকৃত সত্য কী এবং কারও দায়িত্বে গাফিলতি ছিল কিনা, তা জানতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম বেপারীকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

উপরে