NarayanganjToday

শিরোনাম

রূপগ‌ঞ্জে যুবলী‌গের দুই গ্রু‌পের মারামা‌রি, আহত ১০


রূপগ‌ঞ্জে যুবলী‌গের দুই গ্রু‌পের মারামা‌রি, আহত ১০

রূপগঞ্জে শহীদ মিনারে আগে-পরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করাকে কেন্দ্র করে যুবলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে৷ এতে অন্তত ১০ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে৷

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষে রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার তারাবো পৌরসভার সুলতানা কামাল সেতু সংলগ্ন শহীদ মিনারে ঘটে এ ঘটনা। ঘটনার সময় শহীদ মিনারে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে৷

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টার দিকে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) ও তার সহধর্মিনী তারাব পৌরসভার মেয়র হাসিনা গাজীসহ নেতাকর্মীরা সুলতানা কামাল সেতু সংলগ্ন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যান। এ সময় তারাব পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন ফরাজিসহ তার লোকজন পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান করেন। একই সময় তারাব পৌর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনসহ তার লোকজনও পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় আগে-পরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা নিয়ে উভয় গ্রুপের লোকজনের সাথে তর্কবিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের লোকজনই পাট ও বস্ত্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই একে অপরকে কিলঘুষি মারতে থাকেন৷

এতে নাঈম, তানহা, অপু, রুবেলসহ অন্তত ১০ জনের মতো নিলাফুলা জখম হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে মন্ত্রী ও উপস্থিত পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। দুই পক্ষই ঘটনার সত্যতা শিকার করেন। এ ধরনের ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক বলে মনে করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে রুহুল আমিন ফরাজি বলেন, আমরা শহীদ মিনারে শান্তিপূর্ণভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেলে আনোয়ার হোসেনসহ তার লোকজন বাঁধা দিলে ঘটনা ঘটে। অপর দিকে আনোয়ার হোসেন বলেন, রুহুল ফরাজিসহ তার লোকজনই বাঁধার সৃষ্টি করে এ ঘটনা ঘটায়।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুল হাসান তুহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রূপগঞ্জে যুবলীগ শক্তিশালী। শহীদ মিনারের সামনে যুবলীগ নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বেশি ছিল। ফুল দেয়া নিয়ে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে কিন্তু কারো সঙ্গে কোন বিরোধ নেই। সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেনি।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির বলেন, যুবলীগের দুই গ্রুপের হাতাহাতির ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়া হয়।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জানুয়ারি তারাব পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে তারাব পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন, আনোয়ার হোসেন ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন রুহুল আমিন ফরাজি। নির্বাচনে প্রচারণাকে কেন্দ্র করে গত ১২ জানুয়ারি রাতে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তা সংঘর্ষ রূপ নেয়৷ এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে রুহুল আমিন ফরাজি দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

এর আগে, গত শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে কাঞ্চন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল কলির লোকজনের সঙ্গে পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর প্যানেল মেয়র পনির হোসেনের লোকজনের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

উপরে