NarayanganjToday

শিরোনাম

স্ত্রীকে ভীবৎসভাবে হত্যায় আদালতে জবানবন্দি দিলেন স্বামী


স্ত্রীকে ভীবৎসভাবে হত্যায় আদালতে জবানবন্দি দিলেন স্বামী

বন্দরে দ্বিতীয়বার বিয়ে করার ২ মাস ৬ দিনের মাথায় খুন হন গৃহবধূ শান্তা আক্তার (২২)। এ ভীবৎস খুনের ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা হয়েছে। নিহত গৃহবধূর বাবা কলিমউল্লাহ বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে স্বামী আমিনুল ইসলামকে আসামী করে মামলাটি করেন। 

গত শনিবার শান্তার স্বামী স্কুল শিক্ষক আমিনুল ইসলাম শান্তাকে ভীবৎসভাবে হত্যা করে শরীরের চামড়া ছিঁড়ে লবন মেখে লাশ গুম করার জন্য কম্বল প্যাঁচিয়ে ৩ দিন ভাড়া করা বাসায় রেখে দেয়। মঙ্গলবার বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শরীরে লবন  মাখা কম্বল দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় শান্তা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মাথায় আঘাতের চিহৃ রয়েছে বলে পুলিশ জানায়। হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ রেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় আমিনুলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বুধবার আমিনুল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোনারগা উপজেলার বারদীর ওরলাপুর এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে বন্দর গালর্স স্কুলের পিটি শিক্ষক আমিনুল ইসলামের সঙ্গে ২০১৭ সালে সোনারগঁা উপজেলার বারদী এলাকার  কলিমউল্লাহ’র মেয়ে শান্তা আক্তারের বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের কারণে ২০১৯ সালে তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর শান্তার অন্যত্র বিয়ে হয়। ৭ মাস ওই স্বামীর সঙ্গে সংসার করার পর এ বছরের ২০ অক্টোবর আমিনুল ইসলাম  ফুসলিয়ে পুনরায় শান্তাকে বিয়ে করে। এরপর বন্দরের রাজবাড়ি এলাকার সুলতান মিয়ার বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস শুরু কওে তারা। পুনরায় বিয়ে ২ মাস ৬ দিনের মাথায় শান্তাকে হত্যা করে আমিনুল ইসলাম। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বন্দর থানার উপসহকারী পুলিশ পরিদর্শক  এসআই আবদুস সবুর জানান, এ ব্যাপারে মঙ্গলবার রাতে নিহত শান্তার বাবা কলিমউল্লাহ বাদী হয়ে আমিনুল ইসলামকে আসামী করে মামলা করেছেন। বুধবার আদালতে হাজির করা হলে আমিনুল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। 

জবানবন্দীতে আমিনুল বলেন, পারিবারিক অশান্তির কারণে সে স্ত্রী শান্তাকে শীল পাটার পুতা দিয়ে আঘাত করে মাথা থেঁতলে হত্যা করে। এরপর মাছ কাটার বটি দিয়ে শরীরে চামড়া ছিড়ে তাতে লবন লাগিয়ে দেয়।

 

উপরে