NarayanganjToday

শিরোনাম

দেওভোগের ঐতিহাসিক জিউসপুকুর দখলে মেয়র আইভী পরিবার!


দেওভোগের ঐতিহাসিক জিউসপুকুর দখলে মেয়র আইভী পরিবার!

দেওভোগের ঐতিহ্যবাহী জিউসপুকুর রক্ষার্থে এবং বিভিন্ন দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে নারায়ণগঞ্জ পূজা উদযাপন ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

বুধবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন বন্ধ, দখলকৃত দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধার, মন্দির, মঠ, গীর্জা, প্যাগোডায় হামলা বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে এ  পরিষদ দুটির নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। অবস্থান কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেন নেতৃবৃন্দ।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জি। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দ্বীপক সাহার সভাপতিত্বে স্থানীয়দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চন্দল শীল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরুন দাস, সাধারণ সম্পাদক উত্তম সাহা, রিপন ভাওয়ালসহ পূজা উদযাপন ও ঐক্য পরিষদের বিভিন্ন উপজেলা ও থানা কমিটির নেতাকর্মীরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন।

নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জিউস পুকুর দখল ও আত্মসাতের চেষ্টা চলছে অভিযোগ করেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা সরাসরি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তার পরিবারের লোকজনের দিকে আঙুল তোলেন। তারা বলেন, ‘ ৭৪ সালে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে এ পুকুরটি দখল করেন সাবেক পৌর মেয়র আলী আহাম্মদ চুনকা। এ পুকুরটি দখলে মেয়র আইভীর মাসহ তার চাচাদের নামও রয়েছে। এসময় এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপিও পড়ে শুনানো হয়। পরে ওই স্মারকলিপিটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর প্রদান করা হয়।

এদিকে গণঅবস্থানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক বলেন, সার্বজনীন, দেবোত্তর, ওয়াক্ফ সম্পত্তির মালিক হচ্ছে জনগণ। কাজেই এই সম্পত্তি নিয়ে প্রভাব বিস্তার করা অন্যায়। যারা করছেন তাদের বিরুদ্ধে সারাদেশেই আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

নির্মল চ্যাটার্জি বলেন, এই পূজায় দুর্বৃত্তরা কোন অপকর্ম করতে পারে নাই। যারা দেবোত্তর সম্পত্তি করছে তারাও এক প্রকার দুর্বৃত্ত। আমাদের সকলের দায়িত্ব এই সম্পত্তি দখলমুক্ত করা। এই দেশে দখলবাজের কোন অবস্থান নেই। তিনি যত বড় প্রভাবশালী হোক না কেন।

আওয়ামী লীগ নেতা ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা সভাপতি চন্দন শীল বলেন, ‘জিউস পুকুর লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরের সম্পত্তি। এটা দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। ধরাকে সরা জ্ঞান করবেন না। আইনিভাবে লড়াই করতে আসেন। দখলের নামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে হুমকি দিবেন না। জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে এই ধরনের অনাচার করতে দেওয়া হবে না।

খোকন সাহা বলেন, ‘নিজেকে দানবীর দাবি করে মসজিদ, মন্দিরের জায়গা দখল করলে আওয়ামী লীগ সহ্য করবে না। জিউস পুকুরের জায়গা দখল করেছেন মেয়র আইভী ও তার আত্মীয়-স্বজন। এই বিষয়টি আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানাবো। হিন্দুর সম্পত্তি যারা দখল করেন তাদের অবশ্যই আমার নেত্রী নমিনেশন দেবেন না। রক্ত দিয়ে হলেও জিউস পুকুরের জায়গা রক্ষা করবো। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই পুকুর নিয়ে কথা বলবো।’

 

উপরে